দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গড়ছে জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠন করতে যাচ্ছে জাপান। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কাটিয়ে উঠতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে টোকিও।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এনআইবি)। এটি বর্তমান ক্যাবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিস (সিআইআরও)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। নতুন সংস্থাটি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য ভাগাভাগির আওতায় আনা হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নতুন ধরনের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্কার অপরিহার্য। তিনি এটিকে গোয়েন্দা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো জাপানের নিজস্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নেই। এছাড়া দেশটিতে কার্যকর গুপ্তচরবিরোধী আইনও অনুপস্থিত। ফলে বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই জাপানকে তুলনামূলক দুর্বল হিসেবে দেখা হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সহযোগিতা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা জাপানকে গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করেছে।

তবে নতুন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে দেশটির বিরোধী রাজনীতিক ও অধিকারকর্মীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ গণতান্ত্রিক নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: সিএনএন