গাজা থেকে কী সত্যি সেনা সরাবে ইসরায়েল?

গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামাসের নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষমতা ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

তবে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে যে শীতল ও সংশয়পূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তাতে ইসরায়েল সত্যি সেনা সরাতে প্রস্তুত কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া না জানালেও এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের ‘প্রকৃত ও কার্যকর নিরস্ত্রীকরণ’ ছাড়া গাজায় বর্তমানে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে ইসরায়েল ‘খুবই সন্তুষ্ট’।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের জনমতে কট্টরপন্থী মনোভাব প্রকট। যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও গাজা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়াকে দেশের বড় একটি অংশ সহজভাবে নিচ্ছে না।

জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলিদের বড় অংশ গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার বা পুনর্নির্মাণের পদক্ষেপকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই চুক্তিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে ‘উৎসাহিত’ করার পক্ষে মত দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকোটও সতর্ক করে বলেছেন, হামাসের সামরিক ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করে কোনো চুক্তিতে আসা মানেই বড় ব্যর্থতা।

আসন্ন নির্বাচন ও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চরম চাপে রয়েছেন। দুর্নীতি মামলায় জড়িয়ে থাকা নেতানিয়াহুর বড় লক্ষ্য নির্বাচনের আগে তার কট্টরপন্থী জোটসঙ্গীদের ধরে রাখা।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চটাতে চান না, অন্যদিকে নিজ দেশের ডানপন্থী ভোটার ও জোটসঙ্গীদেরও ক্ষুব্ধ করতে চান না। ফলে তিনি হয়তো বড় ধরনের সেনা না সরিয়ে আংশিক বা প্রতীকী কিছু পদক্ষেপ দেখাতে পারেন।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু হয়তো ট্রাম্পের চুক্তি ঘোষণা ও আলোকচিত্রের সুযোগ করে দেবেন, কিন্তু বাস্তবে গাজা থেকে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক দর্শনের পরিপন্থী। ফলে গাজা থেকে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।