ইরানে 'বড় ধরনের হামলা' চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে মার্কিন গণমাধ্যম 'সিবিএস নিউজ' এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সপ্তাহজুড়েই এই হামলা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবারে আর্থিক বাজার খোলার আগেই অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হলেও হামলার চূড়ান্ত সমাপ্তির সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি। মূলত বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতিতে এই হামলার কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেই উদ্বেগের কারণেই এমন চিন্তা করা হচ্ছে।

মার্কিন সূত্রগুলোর মতে, ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ বা ‘গো’ (go) অর্ডার দেননি।

একটি যৌথ অভিযান মানে হবে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েলের পুনরায় সামরিক অভিযানে ফিরে আসা। চুক্তি ভেঙে জুলাইয়ের শুরুতে আমেরিকা পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান ইসরায়েলে কোনো হামলা চালায়নি। তবে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, "পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চালুর কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসরায়েল অবহিত নয়, কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যোগ দিতেও তাদের অনুরোধ করা হয়নি।"

ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সামরিক হামলার বিষয়টি উঠে আসে। রাজনৈতিক দিক তদারকি করেন এমন কয়েকজন হোয়াইট হাউস সহকারী এই হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব জোরে আঘাত করতে যাচ্ছি। একপর্যায়ে তারা বলতে বাধ্য হবে, আমরা আর এটি সহ্য করতে পারছি না।

নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা শুধু জিততে চাই।"

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুক্রবার ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই জিতবে এবং তার নজরদারিতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শান পার্নেল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই তা বাস্তবায়নে আমরা তৈরি।

সাবেক এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিবিএসকে জানান, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি সামরিক বাহিনীর পরিষেবা দেওয়া এবং কার্যকরভাবে দেশ শাসনের সক্ষমতাকে আঘাত করা।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য অপশন তুলে ধরেন, যার মধ্যে স্থল পুনর্সরবরাহ রুটগুলোতে সামরিক হামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নেতানিয়াহু মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সাথেও বৈঠক করেন।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে দ্বিমুখী ব্যবহৃত (সামরিক ও বেসামরিক) বেশ কিছু সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া শুক্রবার তেহরানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ হুমকি দিয়ে লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে প্রতিটি আক্রমণের জবাবে ইরান একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হারাবে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

YA
আরও পড়ুন