ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে স্পেনকে শেঙ্গেন অঞ্চল থেকে বের করে দেয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ।
ফরাসি গণমাধ্যম ইউরোপ আন-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,‘এটি একেবারেই বিবেচনার বিষয় নয়।’
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আফ্রিকা থেকে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীর প্রবেশ বেড়েছে। বিশেষ করে সেউতা ও মেলিয়া সীমান্তকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি রাজনৈতিক মহল থেকে দাবি ওঠে, স্পেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে শেঙ্গেন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এমনকি কেউ কেউ স্পেনের শেঙ্গেন সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান।
তবে এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন লরাঁ নুনিয়েজ।
তিনি বলেন, স্পেন শেঙ্গেন অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিকে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তার মতে, অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং ইউরোপের বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। কোনো সদস্য দেশকে শেঙ্গেন থেকে বাদ দেয়া সমস্যার সমাধান নয়।
তিনি আরো বলেন, শেঙ্গেন ব্যবস্থা ইউরোপীয় সহযোগিতার অন্যতম বড় অর্জন। এটি সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই সাময়িক রাজনৈতিক চাপ বা অভিবাসন সঙ্কটের কারণে এ ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বর্তমানে শেঙ্গেন অঞ্চলের আওতায় ২৯টি ইউরোপীয় দেশ রয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাধারণত পাসপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই যাতায়াত করা যায়। যদিও নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনে কোনো দেশ সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করতে পারে, তবে কোনো সদস্য দেশকে শেঙ্গেন থেকে বহিষ্কার করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমানে আলোচনায় নেই।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজের এই মন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ফ্রান্স কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থাপনার পক্ষে থাকলেও স্পেনকে শেঙ্গেন অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেয়ার ধারণাকে সমর্থন করে না। বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ, যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছে প্যারিস।