যেসব শর্তে ইরানে হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য জোরালো সামরিক পদক্ষেপ স্থগিতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক ঘোষণায় তিনি জানান, দ্রুত সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর নতুন করে কোনো আঘাত হানবে না। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও ইরান সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে হামলা স্থগিতের বার্তার পরও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেনি। জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত স্থবির এবং লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতেই ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।

কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক অভ্যন্তরীণ সংকটও এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ। একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে নতুন করে যুদ্ধে জড়ালে তা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করবে।

ট্রাম্পকে নতুন করে আগ্রাসী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। পাশাপাশি পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত চাপের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজাই এখন রিয়াদসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রধান লক্ষ্য।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের মূল জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকিও দিয়ে রেখেছে দেশটি।

তথ্যসূত্র
BBC News (Official Portal)