মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পাঞ্চবোল নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ও বিশ্ব রাজনীতির সমসাময়িক নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারটিতে ইরান পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, চীনা প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক আধিপত্যের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে।
ইরান ইস্যুতে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তি সম্পাদনে নীতিগতভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ বা হামলা এড়ানোর কৌশল হিসেবেই মূলত ইরান এই সমঝোতার পথ খুঁজছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না হলে পেট্রোলের দাম কমবে। তবে সংঘাত তৈরি হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, কারণ ইরান আপাতত নতুন কোনো সামরিক মুখোমুখি অবস্থানে যেতে ইচ্ছুক নয়।
আসন্ন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প জানান, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়ক্ষেত্রেই রিপাবলিকান পার্টি বড় জয় পাবে।
তবে দেশের প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি ২০২০ সালের উদাহরণ দেন এবং একে তৃতীয় বিশ্বের সাথে তুলনা করেন।
ভোটাধিকার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধে ও নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের পুরো নির্বাচনী কাঠামোয় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন এই শীর্ষ নেতা।
অন্যদিকে প্রযুক্তি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই দুই সম্ভাবনাময় খাতে চীনকে কোনোভাবেই বিজয়ী হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। সে সময় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এআই ও বিশ্বমানের ডেটা সেন্টার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।