ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করা এবং তাদের সেনা প্রত্যাহারের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমাই চূড়ান্ত। এই সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন হবে না।
বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান আল-জাইদি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছে।
এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আগ্রাসনের সময় শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে। ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ইরাকে ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএল (আইএসআইএস) বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের তুলনামূলক ছোট পরিসরের সামরিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে আইএসআইএল পরাজিত করতে গঠিত বৈশ্বিক জোটের সামরিক মিশন শেষ এবং তাদের সেনা প্রত্যাহারের নির্ধারিত ও চূড়ান্ত দিন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১ অক্টোবর ইরাকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ওই দিন থেকে দেশটি কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে।
দেশটির সব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রাষ্ট্রের হাতে থাকা ইরাককে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলী আল-জাইদি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন ডিসি সফরের সময় যে আলোচনা হয়েছিল, সেই আলোচনার ভিত্তিতেই উভয় পক্ষ ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আল-জাইদি ও জেনারেল কুপার ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাবে।
এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে বর্তমানে ইরাকে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং তাঁদের কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আইএসআইএলকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদাররা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, যার মধ্যে পেশমার্গা এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীও রয়েছে, দেশটিতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে।
গত বছর ইরাকের অধিকাংশ এলাকায় থাকা ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে দেশটির স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের উত্তরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় ছিল।
২০০৭ সালে ইরাকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল।
এরপর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন যুদ্ধসেনা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে আইএসআইএল উত্থান এবং ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন সেনারা আবার দেশটিতে ফিরে আসে।
এবার ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই সামরিক উপস্থিতিও পুরোপুরি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। ফলে ২৩ বছর আগে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।