ইরানের ফ্লাইট চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছে ইরাক

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি ইরাকি বিমানবন্দরের জন্য বিশেষ ছাড় চাচ্ছে বাগদাদ। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে ইরাক সরকার।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপের আওতা থেকে কিছু ইরাকি বিমানবন্দরকে অব্যাহতি দেওয়া গেলে ইরানের সঙ্গে সীমিত আকাশ যোগাযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

ইরাক সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত ছাড় মূলত মানবিক ও বেসামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসার জন্য যাতায়াত, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং অন্যান্য জরুরি বেসামরিক ভ্রমণ।

বিশেষ করে নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে নিয়মিত বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। পাশাপাশি ইরানি শিক্ষার্থী ও চিকিৎসার জন্য ইরানে যাওয়া রোগীরাও বিমান যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল।

নাজাফ বিমানবন্দর ইরানি ফ্লাইটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় সফরকারীদের ভ্রমণ জটিল হয়ে পড়েছে। স্থলপথে বিকল্প যাত্রায় সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়া ইরানে ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি ইরাকি বিমানবন্দরেই যাতায়াত স্থগিত করা হয়।

কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল ও সুলাইমানিয়া বিমানবন্দরও ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের সব ফ্লাইট স্থগিত করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

এর আগে বাগদাদ বিমানবন্দরে ইরানি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইরানি কর্তৃপক্ষ তখন বাগদাদমুখী কিছু ফ্লাইট নাজাফে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাজাফসহ অন্যান্য বিমানবন্দরেও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত বিমান সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এর ফলে শুধু বিমান সংস্থাই নয় বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং কোম্পানি ও টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই চাপের ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটও বন্ধ বা স্থগিত হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইরানি ফ্লাইট বন্ধের প্রশ্নটি বাগদাদের জন্য কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

মানবিক প্রয়োজনের কথা সামনে রেখে কিছু বিমানবন্দরের জন্য ছাড় চেয়ে ইরাক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে সীমিত বিমান যোগাযোগ চালু রাখার পথ খুঁজছে।

ইরাক সরকার একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

ইরাকের এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা এবং ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের পাশাপাশি বিমান যোগাযোগেও বিধিনিষেধ বাড়ছে।

ইরান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং সংঘাত কমানোর বিষয়ে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার শর্ত নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরাকের পক্ষ থেকে কিছু বিমানবন্দরের জন্য মার্কিন ছাড় চাওয়ার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্র বা জ্বালানি সরবরাহে নয় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় যাতায়াতসহ দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থাতেও পড়ছে।

এএম
আরও পড়ুন