বদলে যাওয়া মার্কিন কৌশল : পরমাণু নয়, প্রধান লক্ষ্য তেলের দাম কমানো

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠোনোর চেয়ে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণকে এখন মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য গ্যাস ও পেট্রোলের দাম নাগালে রাখাই তাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। এরপরের লক্ষ্য হলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট ফেলে। ইরান কৌশলগত এই জলপথ কার্যত অবরুদ্ধ করায় ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, তেহরানকে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলতে আগামী সপ্তাহেই নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা আসছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা সংঘাতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের মজুদ কমে আসায় ওয়াশিংটনের সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় আক্রমণের সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দাবি রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এসব শর্তের মুখোমুখি হয়ে অর্থনৈতিক চাপ এবং কৌশলগত আলোচনার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

(সূত্র: এএফপি ও ফক্স নিউজ)