যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরুর পর চীন থেকে ইরানে রেলপথে পণ্য পরিবহন প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে স্থল ও রেলপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য মেইসাম জোহুরিয়ান এ তথ্য জানান।
জোহুরিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন-ইরান বাণিজ্যে রেল ও স্থলপথের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনটি রেলপথ সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর পণ্য পরিবহন সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব রুট সমুদ্রপথের বাণিজ্যকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা হিসেবে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও স্থল ও রেলপথের ব্যবহার বাণিজ্যিক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইরানের এই আইনপ্রণেতার দাবি, সামুদ্রিক পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে চীন থেকে ইরানে পণ্য ও জ্বালানি আনার ক্ষেত্রে রেল ও স্থলপথের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব রুট কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় কোনো নৌ অবরোধ বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে বিকল্প স্থলপথ ও রেলপথের গুরুত্ব বেড়ে যায়। চীন ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান স্থল ও রেল যোগাযোগকে সেই বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলে জোহুরিয়ানের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে রেল ও স্থলপথে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও তা সমুদ্রপথে ট্যাংকারের মাধ্যমে পরিবহনের পূর্ণ বিকল্প নয়। পরিবহন সক্ষমতা, অবকাঠামো, সীমান্ত পারাপার এবং বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতির মতো বিষয়গুলো এ ধরনের বাণিজ্যপথের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
জোহুরিয়ান বলেন, জরুরি সময়ে বিকল্প রুট হিসেবে এসব ব্যবস্থা চালু রাখা গেলে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সম্ভাব্য বিঘ্ন কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্বাভাবিক সময়ে একাধিক পরিবহনপথ ব্যবহার করলে সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপও ভাগ করে নেওয়া যায়।
ইরানের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও তেল রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক পরিবহনসংক্রান্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চীনের সঙ্গে রেল ও স্থল যোগাযোগ বাড়ানো তাই শুধু বাণিজ্যিক নয়, সরবরাহ নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে চীন-ইরান রেলপথে পণ্য পরিবহন ১০ গুণ বেড়েছে এবং প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে—এ দুটি তথ্যই বর্তমানে ইরানি আইনপ্রণেতার বক্তব্য হিসেবে এসেছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরিসংখ্যান বা এই সক্ষমতার বাস্তব ব্যবহারের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
একসঙ্গে ৩০ হাতবোমার বিস্ফোরণে উড়ে গেছে টিনের চালা
ফ্রান্সে শিক্ষক সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৬৪