আসাদের আরেক ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, কে এই ওয়াসিম?

সিরিয়ার ১৪ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে সাবেক আসাদ সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সিরিয়ার আদালত। দেশটির রূপান্তরকালীন বিচার প্রক্রিয়ার (Transitional Justice) অংশ হিসেবে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে দেশটির আদালত।

ওয়াসিম আল-আসাদ সম্পর্কে জানা কিছু তথ্য:-

পরিচয়: ৪৬ বছর বয়সী ওয়াসিম আল-আসাদ সিরিয়ার সাবেক একনায়ক বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই। তিনি লাতাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আসাদ পরিবারের সংখ্যালঘু আলাউই সম্প্রদায়ের সদস্য।

প্যরামিলিটারি প্রধান: ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান দমনে তিনি আসাদ সরকারের পক্ষে আধা-সামরিক বাহিনী (Paramilitary Group) গঠন ও পরিচালনা করেন।

মূল অপরাধ: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ঠিক পূর্বে অবস্থিত কৌশলগত অঞ্চল 'পূর্ব ঘৌতা' এবং বিশেষ করে 'আল-মলেহা' শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হামলায় সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আদালত।

অভিযোগ ও রায়: বিচারপতি ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান জানান, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নির্মমতার মাধ্যমে হত্যা সংঘটনের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

ক্যাপটাগন বিতর্ক: আসাদ সরকারের সময়ে বহুল আলোচিত অ্যাম্পেটামিন জাতীয় মাদক 'ক্যাপটাগন' (Captagon) তৈরি ও পাচারের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন তিনি। তবে প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে আদালত তাকে মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তার স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি লেবাননে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং সশরীরে আদালতে উপস্থিত রেখে তার বিচার সম্পন্ন করা হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা