নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস। একই ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভুটে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন।
দুর্যোগের কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সকালে একটি ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের ভূমিধস নদীর প্রবাহ আটকে দেয় এবং সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ওই সময়ে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা তিব্বত থেকে আসা বরফ বা হিমবাহ-সংশ্লিষ্ট পানির প্রবাহের কথাও জানিয়েছেন।
নেপাল সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা দুর্গত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
নোট: এটি একটি চলমান দুর্যোগ। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ভিন্ন পাওয়া যাচ্ছে—কিছু প্রতিবেদনে ২২ বা ৩১ জনের প্রাথমিক হিসাবও রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ৯৫ জন নিহতের তথ্য এসেছে; উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি