নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: মৃত্যু বেড়ে ২২, নিখোঁজ ৪০০

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বুধবার ভোরে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে এলে রাসুয়া জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিয়রং বন্দর এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।

গিয়রং বন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উজান থেকে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত দ্রুতগতিতে বন্দরের দিকে ধেয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় পার্কিং এলাকা। স্রোতে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভেসে যায় এবং চারদিকে ধুলা ও পানির কুয়াশার ঘন আস্তরণ তৈরি হয়।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, বন্যার পানি প্রবল বেগে এগিয়ে আসার সময় লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা পানির স্রোতে ঢেকে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বতের দিক থেকে আসা আকস্মিক পানির ঢল ভোতে কোশি নদী হয়ে নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। রুবি পর্যায়ের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বরফ-পাথরের ধসের কথা বলা হয়েছে, যা নদীর প্রবাহে আকস্মিক বাধা সৃষ্টি করে পরে বড় ঢলের জন্ম দিতে পারে।

বন্যায় সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল ও চীন উভয় দেশেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

এদিকে নিখোঁজের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এমএজেড
আরও পড়ুন