মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার ও একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের কাছাকাছি চলে যাওয়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের চলমান নির্মাণকাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। মেরিন ওয়ানের নিয়মিত উড্ডয়নস্থল বদলে যাওয়ায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছর ৪ আগস্ট। সেদিন ট্রাম্পকে নিয়ে মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনের পরিবর্তে দ্যা ইলিপ্স এলাকা থেকে উড্ডয়ন করে। একই সময়ে কাছের রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের অনুমতি পায়।
হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন একটি হেলিপ্যাড নির্মাণসহ বড় ধরনের নির্মাণকাজ চলছিল। সেই কারণে মেরিন ওয়ানের অস্থায়ী উড্ডয়নস্থল করা হয় ইলিপ্সে। ইলিপ্স থেকে রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় রেডিও যোগাযোগের সরাসরি ‘লাইন অব সাইট’ পর্যাপ্ত ছিল না।
এনটিএসবির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে মেরিন ওয়ানের পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা কন্ট্রোল টাওয়ারে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি। মেরিন ওয়ানের পাইলটরা উড্ডয়নের প্রায় তিন মিনিট আগে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রথম বার্তাটি কন্ট্রোলারদের কাছে পৌঁছায়নি এবং দ্বিতীয়টি ছিল ‘ভাঙা ও সম্পূর্ণ অপাঠ্য’ ধরনের যোগাযোগ। ফলে কন্ট্রোলাররা সময়মতো জানতে পারেননি যে প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার আকাশে উঠতে যাচ্ছে।
মেরিন ওয়ান যখন আকাশে উঠছিল, তখন রিগ্যান ন্যাশনাল থেকে একটি এনভয় এয়ার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে দুই বিমান প্রত্যাশিত নিরাপদ দূরত্বের চেয়ে কাছাকাছি চলে আসে। এফএএর হিসাবে তারা আনুমানিক শূন্য দশমিক ৮২ মাইল অনুভূমিক ও ৭০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্বে চলে এসেছিল। এনটিএসবি অবশ্য জানিয়েছে, তারা এই দূরত্বগুলো আরও যাচাই করছে।
এফএএর নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আকাশসীমায় অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল অনুভূমিক অথবা ৫০০ ফুট উল্লম্ব বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখার বিধান রয়েছে। ফলে ঘটনাটি নিরাপত্তা-নিয়মের দৃষ্টিতে গুরুতর ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রাম্প তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে ছিলেন না বলে হোয়াইট হাউস ও এফএএ জানিয়েছে। বিমান দুটি শেষ পর্যন্ত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়।
এনটিএসবি বলছে, নির্মাণকাজের কারণে মেরিন ওয়ানের অবস্থান পরিবর্তন যোগাযোগ সমস্যার একটি কারণ ছিল। কিন্তু এর পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, সামরিক বিমান এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার মধ্যে পুরোনো যোগাযোগগত দুর্বলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেরিন ওয়ানের ক্রুরা রিগ্যান ন্যাশনালের কন্ট্রোলারদের জানিয়েছিলেন যে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। তবুও নির্ভরযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। বিষয়টিকে শুধু ‘হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজের ভুল’ বলা অতিসরলীকরণ হবে। বরং নির্মাণকাজ একটি বিদ্যমান যোগাযোগ দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছিল।