নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দেবে’: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দেশটির দুর্বল অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি, এই অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযান ইরানের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ‘ব্লকেড’ এবং ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ইরানের ব্যর্থ অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেবে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর দিয়ে প্রায় ১৩ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ইরান কোনো তেল পরিবহন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, নৌ অবরোধের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সংকুচিত করা। তেল রপ্তানি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস হওয়ায় এর ওপর চাপ বাড়লে দেশটির রাজস্ব, মুদ্রার মান এবং আমদানি সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে নৌ অবরোধের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সেখানে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ, জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।

বেসেন্টের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করাকেও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে এই নীতি কতটা কার্যকর হবে এবং এর ফলে ইরানের অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নির্ভর করবে অবরোধ কতদিন স্থায়ী হয়, তেল রপ্তানির বিকল্প পথ কতটা কার্যকর থাকে এবং ইরান কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয় তার ওপর।