নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু ৯০০ ছাড়ালো, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪,৮০০ মানুষ।

উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপাল ও চীন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে এ করুণ চিত্র সামনে এসেছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বসনেত জানান, পাহাড়ি এলাকা, দুর্গম জনপদ ও নদীর আশেপাশের স্থান থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনা সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মূল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ছাড়াও প্লাবনের টানে ভেসে আসা অনেক মৃতদেহ নেপালের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

এদিকে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গণকবরে অনেক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে, যা হিন্দুপ্রধান এই দেশে বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ সনাতন রীতি অনুযায়ী সাধারণত সেখানে দাহ করা হয়ে থাকে।

গত সপ্তাহে হিমালয়ে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই পাহাড় থেকে ভয়াবহ বেগে বরফ, কাদা, পাথর ও পানি নেমে এসে এ বিপর্যয় ঘটায়। এই প্লাবন চীন সীমান্ত সংলগ্ন পুরো শহর ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। নেপালের মাটির নিচের বিভিন্ন টানেলে এখনো অন্তত ৯০ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, যাদের উদ্ধারে কাজ করছে একাধিক আন্তর্জাতিক দল।

অন্যদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নদী থেকেও ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নেপালের বন্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হলেও সরকারি তালিকায় তা যুক্ত করা হয়নি।

হতাহতের পরিসংখ্যান

নেপালে নিহতের সংখ্যা: ৯০৩ জন।

নেপালে মোট নিখোঁজ: ৪,২৪৭ জন (যার মধ্যে ৩,৬৫৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৫৯২ জন বিদেশি)।

নিখোঁজ কর্মীদের বিবরণ: ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ শ্রমিক, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ৩৮ জন পুলিশ এবং ১৯ জন শুল্ক ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।

তিব্বতে (চীন) নিহতের সংখ্যা: ১৬ জন।

তিব্বতে মোট নিখোঁজ: ৫৪৬ জন।