পাহাড়ের খাঁজে জমছে পানি, নেপালে ফের আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ এএম

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় নতুন একটি প্রাকৃতিক জলাধারের সন্ধান পেয়েছে চীন। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, পাহাড়ের খাঁজে বিপুল পরিমাণ পানি জমেছে। জলাধারটির বাঁধ ভেঙে গেলে যেকোনো সময় আবার আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। এ পরিস্থিতিতে নেপালের একাধিক এলাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এর আগে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেই হ্রদের পানি উপচে নদীগুলোর পানিও বাড়ছিল।

রোববার (৩০ আগস্ট) চীন জানায়, হ্রদটির পানি অনেকটাই কমে গেছে এবং আপাতত এটি বিপদসীমার বাইরে রয়েছে। তবে এর প্রায় ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার উঁচুতে নতুন একটি জলাধার তৈরি হয়েছে।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নতুন জলাধারটিতে প্রায় ৩৭ কোটি গ্যালন পানি জমেছে। কোনো কারণে এর বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের উপত্যকায় বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপরেতি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নেপালের বাসিন্দাদের মুঠোফোনেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের বিপর্যয়ের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৮৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫০২ জন। অন্যদিকে, তিব্বতের দিকে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীন। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অনেক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।

গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎ আকস্মিক বন্যা আসে। পানি ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ভারত সরকার নেপালে একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে।

বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করতেও জটিলতার মুখে পড়েছে নেপাল। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আনন্দবাজার।

এএম
আরও পড়ুন