নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রকাশনা ও সংস্কৃতি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্কুলের পাঠ্যবইও রয়েছে।
ইউক্রেনে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। এর ঠিক আগে দেশটির বই প্রকাশনা ও সরবরাহ অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভে রানোখ প্রকাশনা সংস্থার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে রুশ হামলায় প্রায় ৮০ লাখ বই ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি ছিল পাঠ্যবই।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে রুশ হামলায় দেশজুড়ে ১ কোটির বেশি বই ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রকাশনা শিল্পের সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউক্রেনীয় হৃভনিয়া। হামলায় ৩০টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে টানা কয়েক দিন ধরে রুশ ড্রোন হামলা চলছে। সোমবারও এসব হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কয়েক দিনে রাশিয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
হামলার কারণে শুধু বই নয়, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় গুদাম ও বিতরণকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতির মধ্যে বইয়ের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের শিক্ষা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই শিক্ষা কার্যক্রমে নানা বাধার মুখে রয়েছে। এবার পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণের সরবরাহেও নতুন সংকট তৈরি হলো।
ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষের মতে, প্রকাশনা ও বই সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; দেশটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর ওপরও বড় আঘাত। অন্যদিকে, রাশিয়া তাদের সামরিক হামলাগুলোকে যুদ্ধসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।