পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির ফোরকেরিয়া প্রশাসনিক এলাকার আলাসোয়া গ্রামে একটি গণকবরের সন্ধান মিলেছে।
জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ছয়টি পুরুষের গলিত মরদেহ দেখতে পান। এই ঘটনার পর ছয়টি মরদেহের নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে আফ্রিকার ২০টি সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন (এনজিও)।
গিনির সশস্ত্র বাহিনী বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, মৃতদেহগুলো শনাক্তকরণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ফোরকেরিয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো, যার মধ্যে আফ্রিকার নাগরিক আন্দোলন ‘তুর্নন লা পেজ’ (TLP) ও ‘আফ্রিকা জম সেন্টার’ রয়েছে, তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসব ব্যক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে মৃত্যুদণ্ড বা হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে জেনারেল মামাদি দুমবুয়া সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গিনির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ওপর কঠোর দমনপীড়ন চলছে। টিএলপি-গিনির তথ্যমতে, সামরিক শাসন শুরুর পর থেকে অন্তত ৩৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। গত বছরও একই অঞ্চলে আরেকটি গণকবর পাওয়া গেলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফ্রান্স সরকারও গিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি এক স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা