যুক্তরাষ্ট্রে এইচওয়ান-বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীর কাজের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে H-4 ভিসায় থাকা অনেক স্বামী-স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে চাকরি করার সুযোগ হারাতে পারেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতীয় অভিবাসী পরিবারগুলোর।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী এইচওয়ান-বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এইচ-ফোর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে Employment Authorization Document (EAD)-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। অনুমোদন পাওয়ার পর তারা দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) এই কর্মসংস্থান সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে H-1B কর্মীদের নির্দিষ্ট শ্রেণির H-4 নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০১৫ সালে চালু হওয়া বর্তমান ব্যবস্থায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব ভারতীয় পরিবারগুলোর ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের H-4 EAD অনুমোদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের প্রায় ৯৩ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের প্রায় ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।
H-4 EAD-এর মাধ্যমে কাজ করা অনেক ভারতীয় নারী প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য STEM-সংশ্লিষ্ট পেশায় যুক্ত রয়েছেন। ফলে কাজের অনুমতি বাতিল হলে শুধু পারিবারিক আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, অনেকের পেশাগত ক্যারিয়ারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এখনই চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই
তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে বৈধ H-4 EAD থাকা ব্যক্তিরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। নতুন নিয়ম কার্যকর করতে নিয়ম প্রণয়ন ও জনমত গ্রহণসহ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
চূড়ান্তভাবে নিয়ম পরিবর্তন করা হলেও সেটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখনই H-4 ভিসাধারীদের চাকরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে H-1B ভিসা কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক কঠোর নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে H-1B ভিসার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ফি আরোপসহ বিভিন্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে যেসব পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন, তাদের ওপর এর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে দুইজনের আয় গুরুত্বপূর্ণ এমন পরিবারগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল, রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা ঢাবি সিন্ডিকেটের
জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
ইরাকের কাছে সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র