ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারী কয়েদিদের ওপর কারা কর্তৃপক্ষের অভিযান, তল্লাশি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় তাঁদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিস্তিনের বন্দি ও প্রাক্তন বন্দি বিষয়ক কমিশন এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জারি করেছে।
সংস্থাটি জানায়, দামোন কারাগারসহ বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দি রাখা, মৌলিক চাহিদার অভাব, নিম্নমানের খাবার এবং চিকিৎসার মারাত্মক অবহেলা চলছে। এর ফলে নারী বন্দিরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছেন।
অ্যাজমা ও পিঠের সমস্যায় ভোগা আবীর ওদেহ নামের এক নারী বন্দি জানান, ১৭ ও ১৮ আগস্ট কারাগারে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বন্দিদের বের করে দিয়ে তাঁদের জামাকাপড় ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
কারাগারে জটিল রোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না ফিলিস্তিনি চিকিৎসাবিদ ড. দিমা মোহাম্মদ আমিন, ইয়াসমিন শাবান এবং নাদিন আল-দাগামিনের মতো বন্দিদের। ৫০ বছর বয়সী চিকিৎসক দিমা আমিনের হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
গত ১৯ আগস্ট বিতর্কিত চরমপন্থী ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির স্বয়ং দামোন কারাগারে প্রবেশ করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের চরম হুমকি দেন এবং তাঁদের ওপর আরোপিত কঠোর ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গান। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৯২ জন ফিলিস্তিনি নারীসহ সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু