যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
তেহরানভিত্তিক গবেষক আলী আকবর দারেইনি বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় মার্কিন হামলায় বেসামরিক নাগরিক, শিশুসহ হতাহতের ঘটনাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই এবং এর জবাব দিতে হবে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক দারেইনি বলেন, সিরিকের হামলাটি “উপেক্ষা করা যায় না”। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি আরও বড় একটি যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
দারেইনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
এদিকে ইরানি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বর রাতের হামলায় দক্ষিণ ইরানের সিরিকের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক মানুষ, শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলায় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করার অভিযোগ স্বীকার করেনি।
হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা এবং মাইন পাতা-সংক্রান্ত সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে ইরানে আরও হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে সামরিক উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।