টরন্টোতে শক্তিশালী ঝড়, বিদ্যুৎহীন ৪৫ হাজারের বেশি গ্রাহক

কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে শক্তিশালী বজ্রঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টির কারণে গাছপালা উপড়ে পড়া, সড়কে জলাবদ্ধতা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কারণে শহরের ৪৫ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আঘাত হানা ঝড়ের সময় টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা প্রবল বৃষ্টিপাত ও শক্তিশালী বাতাস বয়ে যায়। কিছু এলাকায় বড় আকারের শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রোর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টা নাগাদ অন্তত ৪৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়া ও গাছ উপড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

প্রবল বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কয়েকটি অংশে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ডন ভ্যালি পার্কওয়েসহ কিছু সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (সিবিসি) প্রকাশিত ছবিতে টরন্টোর উত্তরে ভনের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি প্রায় পানিতে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

টরন্টোর মাইকেল গ্যারন হাসপাতালের জরুরি বিভাগও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় টরন্টো মেয়র অলিভিয়া চাও শহরের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা উপড়ে পড়া গাছ, ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কাজ শুরু করেন।

ঝড়ের কারণে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। বুধবার সন্ধ্যায় কয়েক ডজন ফ্লাইট বিলম্বিত অথবা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে বন্যা ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে টরন্টো ট্রানজিট কমিশনের কিছু সেবা ব্যাহত হয়।

কানাডার আবহাওয়া সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা পরে গ্রেটার টরন্টো এলাকায় জারি করা কমলা সতর্কতা প্রত্যাহার করে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম অন্টারিওর কিছু এলাকায় তীব্র বজ্রঝড় ও তাপপ্রবাহের বিষয়ে হলুদ সতর্কতা বহাল ছিল।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ এ ধরনের শক্তিশালী বজ্রঝড় তৈরির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। টরন্টোতে সর্বশেষ ঝড়ের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ, হাসপাতাল ও বিমান চলাচলে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা পরিস্থিতিটির ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।