মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টিকে রক্ষা করার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নিজেকেই-এমন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচারপ্রধান রব আরলেট।
আল জাজিরার ‘দিস ইজ আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরলেট বলেন, রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে এখনো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার মতে, দলকে নির্বাচনে এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগানোই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান কৌশল।
আরলেটের মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য তিনি ব্যাপক প্রচার চালাবেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক নৈশভোজে তিনি বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩৫টি আসনে প্রচারে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।
তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রিপাবলিকানদের জন্য একই সঙ্গে শক্তি ও ঝুঁকি-দুই হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তার দৃঢ় সমর্থকরা ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্যদিকে, তার জনপ্রিয়তা কমে গেলে বা তার নীতির কারণে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে সেই নেতিবাচক প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব ইস্যু আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরলেটের বক্তব্যের মূল ইঙ্গিত হলো, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সাফল্য এখন অনেকটাই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। দলটির ভোটারদের বড় একটি অংশকে সক্রিয় ও উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ কতটা দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে-সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের জন্য তাই শুধু আসন ধরে রাখাই নয়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।