ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা: তদন্ত চাইলো রেড ক্রিসেন্ট

দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটির দাবি, হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায় বুধবার একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলাটি হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশ করা ভিডিও ও ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি। তবে বিভিন্ন ইরানি সূত্রে হতাহতের সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট আইসিসিতে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, ঘটনাস্থলটি একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হামলাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিবেদন অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে হামলার ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

মার্কিন বাহিনী সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক অবকাঠামো, মাইন পাতা ও যোগাযোগ সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে। কুহেস্তাক এলাকায় একটি যোগাযোগ টাওয়ার ও বন্দরের কাছাকাছি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। মার্কিন হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে- কুহেস্তাকের ওই হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং হামলাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করেছে কি না।

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের আইসিসিতে তদন্তের আহ্বান সেই প্রশ্নেরই আন্তর্জাতিক আইনি জবাব খোঁজার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইসিসি তদন্ত শুরু করবে কি না, কিংবা ঘটনাটির ওপর আদালতের এখতিয়ার কীভাবে প্রয়োগ হবে- তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলোর ওপর।