নিলামে বিক্রীত স্থাবর সম্পত্তিতে ভ্যাট অবৈধ: হাইকোর্ট

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের নির্দেশকে আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির ওপর এই ভ্যাট দিতে হবে না।

বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত করে এ রায় দেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়।

নিলামে আবেদনকারীরা ২৪ কোটি টাকা সর্বোচ্চ দর দিয়ে সম্পত্তিটি কেনেন। তাদের দর অনুমোদনের পর পুরো অর্থ জমা দেন। এরপর অর্থঋণ আদালত ওই অর্থ ও পাউন্ডেজ ফি গ্রহণ করে নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

নিলাম ক্রেতা ও ডিক্রিদার ব্যাংক উভয়েই ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেন। পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিধারী ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলেও নিলাম ক্রেতাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট করেন। গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করে জানতে চান, নিলাম ক্রেতাদের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের নির্দেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চে রুল ও সম্পূরক রুলের শুনানি হয়। নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান। শুনানি শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর আদালত রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত করে রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেন, নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালতের আদেশ আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছে এবং এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

এ ছাড়া বিতর্কিত এসআরওতে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’র সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার অংশটিও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করেন আদালত।

আইনজীবীরা বলছেন, এ রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাটমুক্ত রাখলে অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির ওপর নতুন করে করের দায় চাপানো যাবে না এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থানও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে এ রায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে।

এএম
আরও পড়ুন