ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। বৃহস্পতিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) এ হামলায় আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলায় আবাসিক ভবনটির নবম তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভবনটি থেকে ১৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাকর্মী এবং একজন শিশু রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে একটি বড় অগ্নিগোলকের দৃশ্য দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি জেটচালিত ড্রোন ভবনটিতে আঘাত হানতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কিয়েভে প্রায় প্রতিদিনই রুশ হামলা চলছে। এসব হামলায় আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ বিমান হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। ওই হামলাও ছিল রাজধানীর ওপর টানা ষষ্ঠ দিনের আক্রমণ।
এদিকে কিয়েভের বাইরে ব্রোভারি এলাকায় একটি কোকা-কোলা কারখানায়ও রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওই হামলায় কারখানাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ আহত হননি।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই একদিকে সামরিক হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও সামনে এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন; তবে মাঠপর্যায়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে।