ইরানকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে এবার যুক্ত হলো ইইউ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে পরিচিত এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ আরও সংকুচিত করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, অভিযানে ইইউর ‘শক্তিশালী ও দ্রুত অবস্থান’কে ওয়াশিংটন স্বাগত জানায়। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে পারমাণবিক কর্মসূচি, অস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা থেকে বিরত রাখতে কাজ করছে।

বেসেন্ট আরও বলেন, ইরানের প্রতি বিশ্বের বার্তা স্পষ্ট- তেহরানের অবশিষ্ট আর্থিক পথগুলো বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি ইরানি সরকারকে ‘হত্যাকারী শাসন’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেন। এসব অভিযোগ অবশ্য মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য।

গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা আর্থিক ‘লাইফলাইন’ বা অর্থনৈতিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা। অভিযানের আওতায় ইরানের রাজস্বের উৎস, তেল খাত এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে পড়ছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনজন ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন মারাত্মকভাবে চাপে পড়েছে।

অন্যদিকে, গত মাসের শেষ দিকে ইইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র, জি৭ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও কাজ করার কথা জানিয়েছিল ইউরোপীয় জোটটি।

ইইউর এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ইরাননীতি আরও কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে অভিযানের ফলে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়লেও তা তেহরানকে কতটা নীতিগত ছাড় দিতে বাধ্য করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, মার্কিন অভিযানের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়লেও ইরান এখনো প্রতিরোধের অবস্থানে রয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন