কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন ভারতের তামিলনাড়ুর এক নারী। ভানিথা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তামিলনাড়ুর কাল্লাকুরিচি জেলার কালেক্টর ও পুলিশ সুপারের কাছে তাকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন।
ভিডিওতে ভানিথাকে মাথায় স্কার্ফ দিয়ে একটি ছোট ও সংকীর্ণ কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। দুই হাত জোড় করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে কুয়েত থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
ভানিথার অভিযোগ, কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তিনি কোনো বেতন পাননি বলেও দাবি করেছেন। তবে তার নিয়োগকর্তার বক্তব্য বা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানিয়ে ভানিথা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং এজন্য তামিলনাড়ুর প্রশাসনের সহায়তা প্রয়োজন। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের কাছে জরুরি আবেদন
ভানিথার আবেদন মূলত কাল্লাকুরিচি জেলার প্রশাসনের উদ্দেশে। তিনি জেলা কালেক্টর ও পুলিশ সুপারের কাছে তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন।
বিদেশে কর্মরত ভারতীয় গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি, বেতন না পাওয়া, কর্মস্থলে নির্যাতন এবং দেশে ফেরার সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ভানিথার ঘটনাও সেই ধরনের উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।
তবে এই ঘটনায় কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ভানিথার নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে তার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন।
ভিডিওতে অসহায়ত্বের চিত্র
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ভানিথাকে বেশ উদ্বিগ্ন ও অসহায় দেখাচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্যাতন ও বেতন না পাওয়ার কারণে তিনি সেখানে থাকতে পারছেন না। দেশে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিলে দ্রুত দূতাবাস, স্থানীয় প্রশাসন ও নিজ দেশের সরকারি সংস্থার সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ভানিথার ভিডিওটি সামনে আসার পর এখন তার অবস্থান, অভিযোগের সত্যতা এবং তাকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।