স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে দীর্ঘ ২৬ দিন সাগরে ভেসে থাকা একটি অভিবাসীবাহী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে থাকা ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে গত ৭ আগস্ট যাত্রা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌকাটিতে শুরুতে ১০০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন।
স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থা বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে গ্রান ক্যানারিয়ার আরগুইনেগুইন শহর থেকে প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১২০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে নৌকাটির সন্ধান পায়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে পৌঁছে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সবাই পুরুষ এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। তাদের হেলিকপ্টারে করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদের বৃহস্পতিবার ভোরে আরগুইনেগুইন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহও পাওয়া যায়। তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধারকারীরা মরদেহগুলো সরিয়ে আনতে পারেননি। অন্যদিকে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা স্প্যানিশ সংগঠন Caminando Fronteras-এর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার সময় ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮৩ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটির গায়ে থাকা চিহ্নের সঙ্গে গাম্বিয়া থেকে গত ৭ আগস্ট ১২৭-১২৮ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকার চিহ্নের মিল পাওয়া গেছে। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও একটি শিশুও ছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার, পানি ও চিকিৎসার সংকট এবং কঠিন আবহাওয়ার কারণে একের পর এক যাত্রীর মৃত্যু হয় বলে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিহো এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগর যেন মৃত্যুর পথে পরিণত হচ্ছে এবং এই ধরনের প্রাণহানিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি স্পেনের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় অভিবাসন নীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশকেও অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর আটলান্টিক রুটটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, অনিরাপদ নৌযান, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর এই পথে বহু মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আবারও ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, মানবপাচার এবং নিরাপদ অভিবাসনপথ তৈরির প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কয়েক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রপথে অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে এই ভয়াবহ ঘটনাকে নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।