ট্রাম্পের হামলার হুমকির পর আলোচনায় ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’

ইরানের গোপন ও গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের নজরে থাকা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ওই স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।

ইরানে কুহ-ই কোলাং গাজ লা (Kuh-e Kolang Gaz La) নামে পরিচিত এই পাহাড়ি স্থাপনাটি মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশে, নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের প্রায় ১.৫–২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। রাজধানী তেহরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২২০–২২৫ কিলোমিটার।

পাহাড়ের গভীরে কী আছে?

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভেতরে গভীর ভূগর্ভস্থ টানেল ও কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান স্থাপনাটি পাহাড়ের অন্তত ১০০ মিটার গভীরে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেখানে দুটি জোড়া টানেল প্রবেশপথ শনাক্ত করা হয়েছে।

গভীর ভূগর্ভে নির্মাণের কারণে স্থাপনাটি প্রচলিত বোমা হামলার তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, টানেলগুলোর প্রবেশপথ শক্তিশালী করা হয়েছে এবং পুরো এলাকার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনীও নির্মাণ করা হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনা নাকি অন্য কিছু?

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নাতাঞ্জে ২০২০ সালে ক্ষতিগ্রস্ত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কেন্দ্রের বিকল্প হিসেবে পাহাড়ের ভেতরে নতুন একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, স্থাপনাটি ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা অন্যান্য সংবেদনশীল পারমাণবিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর পরিদর্শকেরা এখন পর্যন্ত স্থাপনাটির ভেতরে প্রবেশ করে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করতে পারেননি।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে নির্মাণকাজের চিহ্ন রয়েছে। তবে স্থাপনাটি কার্যকরভাবে চালু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

কেন হামলা করা কঠিন?

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশ্ন হলো স্থাপনাটি কতটা গভীরে এবং কতটা সুরক্ষিত। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এটিকে এমন একটি লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেটি ভূগর্ভে গভীরভাবে নির্মিত হওয়ায় শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা দিয়েও ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে।

ট্রাম্প এর আগে স্থাপনাটি নিয়ে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। এবার তার সর্বশেষ মন্তব্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের বিপরীতে তেহরানের অবস্থানও একই স্থাপনাটির উদ্দেশ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার দাবি প্রমাণিত নয়।