আল-জাওফে হুতিদের সামরিক ক্যাম্পে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর হামলা

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশে হুতিদের একটি সামরিক ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে সেখানকার সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি জানান, আল-লাবানাত সামরিক ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে সম্প্রতি সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত করা ‘বিশেষায়িত সক্ষমতা’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আল-নুজাইলি দাবি করেন, হামলায় ক্যাম্পটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং সেখানে থাকা হুতিদের সদস্যদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর যুদ্ধ তীব্র হয়। সরকারি বাহিনীকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থন দিয়ে আসছে।

২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে দেশটিতে তুলনামূলকভাবে সংঘাত কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই বেড়েছে। এতে ইয়েমেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আঞ্চলিক সংঘাতে হুতিদের সম্পৃক্ততাও বাড়ে। তারা ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আল-জাওফে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।