যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা দ্বীপে প্রায় এক শতাব্দী আগে শিকার ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল খচ্চর হরিণ (মিউল ডিয়ার)। সময়ের সঙ্গে তাদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এবার পরিবেশ রক্ষার যুক্তিতে দ্বীপটির প্রায় সব হরিণ নিধনে পরিকল্পনার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
ক্যাটালিনা আইল্যান্ড কনজারভেন্সির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে দ্বীপের অস্থানীয় মিউল ডিয়ার সরিয়ে ফেলা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ২০০ হরিণ অপসারণের কথা রয়েছে।
১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে ক্যাটালিনা দ্বীপে মোট ২২টি হরিণ আনা হয়েছিল। সেখানে বড় শিকারি প্রাণীর স্বাভাবিক উপস্থিতি না থাকায় দ্রুত তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে দ্বীপে প্রায় ২ হাজার হরিণ রয়েছে বলে সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের হিসাব। সংরক্ষণবিদদের দাবি, হরিণগুলো দ্বীপের স্থানীয় উদ্ভিদ ব্যাপকভাবে খেয়ে ফেলছে। এতে স্থানীয় গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের পুনরুৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আগুন দ্রুত ছড়াতে পারে এমন আক্রমণাত্মক ঘাসের বিস্তার ঘটছে। ফলে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও দাবানলের ঝুঁকি দুই দিক থেকেই হুমকি তৈরি হয়েছে।
তবে হরিণ নিধনের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধিতাও রয়েছে। প্রাণীপ্রেমী ও শিকারি সংগঠনগুলোর একটি জোট আদালতে এই কার্যক্রম বন্ধের আবেদন করেছিল। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়ায় পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলে যায়।
কনজারভেন্সি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু হরিণের সংখ্যা কমানো নয়, বরং দ্বীপ থেকে অস্থানীয় এই প্রজাতিকে পুরোপুরি সরিয়ে স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার করা। তবে এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।