কেনিয়ায় ছোট আকারের খুচরা দোকান পরিচালনা ও হকারি বা ফেরি ব্যবসায়ে লিপ্ত থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করছে দেশটির সরকার। গত ২ সেপ্টেম্বর নাইরোবির স্টেট হাউসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (MSME) উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এমন বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রেসিডেন্ট রুতো স্পষ্টভাবে জানান, ফেরি করা এবং ছোট খুচরা দোকানের মতো ব্যবসায় বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় কেনিয়ানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেসব খাতে অধিক পুঁজি, বড় বিনিয়োগ ও উচ্চ প্রযুক্তির প্রয়োজন, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকে সবসময় স্বাগত জানানো হবে; কিন্তু ছোট ব্যবসাগুলো শুধু কেনিয়ানদের জন্যই সংরক্ষিত থাকা উচিত।
প্রস্তাবিত ‘লোকাল কনটেন্ট বিল, ২০২৫’ সংসদ থেকে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনকে এই অন্তর্বর্তীকালীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রুতো। আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেসবোন হ্যানসেন উইলা বলেন, ‘এটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার সেরা উপায়। দেশীয় ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে কেনিয়ার তৈরি অবকাঠামো ও সামাজিক সুবিধা নিয়ে ছোটখাটো বিদেশি ব্যবসায়ীদের লাভবান হতে দেওয়া ঠিক নয়।’
তবে এই অভিযানের মাঝেই কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর কেনিয়ার পররাষ্ট্র সচিব কোরির সিং'ওয়ে জানান, যেসব বিদেশি নাগরিক দেশের আইন মেনে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন, তারা আইনি সুরক্ষা পাবেন। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়ে ব্যাখা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পৃথক একটি ঘটনায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘টাটা কেমিক্যালস’কেও কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রুতো। দেশটির অভিযোগ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেনিয়ার অর্থনীতির জন্য এই নীতির সুফল ও ঝুঁকি উভয়ই রয়েছে; যদি নিয়মগুলো সুস্পষ্টভাবে প্রয়োগ করা না হয়, তবে সার্বিক বড় বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা