রাজনীতি, অর্থনীতি ও যুদ্ধজনিত অস্থিরতার কারণে ইসরায়েলে চিকিৎসকদের দেশত্যাগের প্রবণতা অর্থাৎ ‘মেধা পাচার’ (Brain Drain) মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩৭০ জন চিকিৎসক ইসরায়েল ছেড়ে চলে গেছেন। ইসরায়েলি দৈনিক পত্রিকা ‘হারেৎজ’ (Haaretz)-এ এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় সেই সমস্ত ডাক্তারদের 'দেশত্যাগী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা বিদেশে তাদের প্রথম বছরের মধ্যে ২৭০ দিনের বেশি সময় কাটিয়েছেন এবং পরবর্তীতে টানা তিন মাসের বেশি সময় ইসরায়েলে থাকেননি।
গবেষণার অন্যতম লেখক অধ্যাপক ইতায়ে আতার জানান, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের বিচার বিভাগীয় সংস্কার আন্দোলন, ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের পর থেকেই দক্ষ পেশাদারদের দেশ ছাড়ার এই হার দ্রুত বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশ ছাড়া চিকিৎসকদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স ৪৫ বছরের বেশি; যারা মূলত বিশেষজ্ঞ এবং নবীন ডাক্তারদের প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। চক্ষু, চর্ম, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জনদের মধ্যেই এই দেশত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে তেল আবিব অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ চিকিৎসক দেশ ছেড়েছেন।
ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের প্রায় ২৪ শতাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন এবং আরও ২৫ শতাংশ চিকিৎসক আগেই অবসরসীমা পার করলেও নতুন জনবলের অভাবে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আনাদোলু
বিশ্বজুড়ে অ্যাডিডাস বয়কটের ডাক
ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর যা বললেন জেলেনস্কি