ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ (Anak Krakatau) থেকে অনবরত নির্গত ছাই এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে রাজধানী জাকার্তাকে সেবা দেওয়া দুটি প্রধান বিমানবন্দরসহ অন্তত সাতটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগানধি।
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি থেকে নির্গত বিষাক্ত ছাইয়ের ঘন আস্তরণে ছেয়ে গেছে রাজধানী জাকার্তা এবং এর আশপাশের বিশাল অঞ্চল। রাতের আকাশে লাল আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা ও আকাশের দিকে উঠে যাওয়া ছাইয়ের কুণ্ডলী পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ থাকা এবং প্রায় ২,৩০০টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা পথ পরিবর্তনের কারণে অন্তত ২,৭০,০০০ বিমান যাত্রী চরম চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলের এই অনিশ্চয়তা কতদিন চলবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না কতৃপক্ষ।
ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে ইন্দোনেশিয়া 'প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ১৮৮৩ সালে মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ঐতিহাসিক প্রলয়ঙ্করী বিস্ফোরণে তৈরি সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০ বছর পর জেগে ওঠা এই 'আনাক ক্রাকাতোয়া' বা 'ক্রাকাতোয়ার সন্তান' আগ্নেয়গিরিটির ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতের ফলেও চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
ইন্দোনেশিয়ার মেটেরোলজিক্যাল এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমান অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশের ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ফুট উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। শুষ্ক বাতাস ও তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ক্ষতিকারক সালফার ও সিলিকাবিশিষ্ট ছাই আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যঝাঁকি এড়াতে জাকার্তা ও লামপুং অঞ্চলের স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষণ বা অনলাইন ক্লাস চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স