হুথিদের কবল থেকে রাজধানী পুনরুদ্ধারের ঘোষণা ইয়েমেনের

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে রাজধানী সানা পুনর্দখলের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

সানার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত আল-বায়দা ও আল-জাউফ প্রদেশে উভয় পক্ষের মধ্যে লড়াই চরম আকার ধারণ করেছে।

ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সমীর আল-সাবরি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি আরব-সমর্থিত সরকার সানাকে মুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মজিদ আল-নুজাইলি সাধারণ জনগণকে রাজধানী সানাগামী প্রধান প্রধান সড়কগুলো, বিশেষ করে মারিব, আল-জাউফ, নিহম ও আল-হাজম সংযোগকারী পথগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২২ সালের জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির পর এটাই ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা। সম্প্রতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুথিরা অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা করলে যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নেয়।

আল-জাজিরার ইয়েমেন সম্পাদক আহমেদ আল-শলাফি জানান, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথিদের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে লড়াইকে একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আল-ধালিয়া, মারিব, আল-জাউফ ও আল-বায়দা অঞ্চলে একযোগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের নতুন এই সংঘর্ষে প্রায় ৯০০ মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন এবং কেবল তাইজ অঞ্চল থেকেই ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী একাধিক ফ্রন্টে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং পুরো ইয়েমেনের ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল-জাজিরা