ইরানের পরমাণু ইস্যু জাতিসংঘে পাঠাচ্ছে পশ্চিমারা, পাল্টা হুমকি তেহরানের

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না থাকায় তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুতের সঠিক হিসাব বের করতে না পারার বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

সংস্থাটির এই সতর্কবার্তার পরেই তেহরানের বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আইএইএ-এর গভর্নর বোর্ডে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান তাদের ঘোষিত পরমাণু উপকরণ বা কেন্দ্রগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো তথ্য প্রদান করেনি। ফলে পরিদর্শকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গ্রোসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, '২০২৫ সালের জুনে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের যে মজুত ছিল, সে সম্পর্কিত ধারাবাহিক তথ্য থেকে আইএইএ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে।' তথ্যের এই ঘাটতি পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে দ্রুত তেহরানকে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমা চার পরাশক্তি ৩৫ সদস্যের বোর্ডে একটি খসড়া প্রস্তাব পাসের চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে বিগত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের পরমাণু ফাইলটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফের পাঠানো হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলেও নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতার কারণে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পশ্চিমা উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলেই পরিদর্শকদের কাজ ব্যাহত হয়েছে, যার দায় তেহরানের নয়। অন্য কোথাও নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হয়ে পশ্চিমা বিশ্ব আইএইএ-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিামারা এই প্রস্তাব নিয়ে এগোলে ইরানও ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নেবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আল-জাজিরা