অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির ওপর ব্রিটেনের আসন্ন নিষেধাজ্ঞার খবরের পর লন্ডনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী। এমনকি পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিয়ে তা আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতির উসকানিমূলক আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি ও পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। এই খবরের পরই ইসরায়েলি রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, 'ইসরায়েলে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের যুগ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।' নিজের দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলকে নিশানা করছে অভিযোগ করে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ব্রিটেনকে পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় ফেলার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, 'ইসরায়েল রাষ্ট্রের এখন সময় এসেছে আনুষ্ঠানিকভাবে এটা স্বীকার করে নেওয়া যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ একটি অধিকৃত আর্জেন্টাইন ভূখণ্ড, যা ব্রিটিশরা বলপ্রয়োগ করে হরণ করেছে।' তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তেল সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ব্রিটেনের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করার অনুরোধ জানান।
এর আগে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ব্রিটেন যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়, তবে তাদের হাতেও উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার সব হাতিয়ার রয়েছে।
ই-ওয়ান (E1) এলাকায় নতুন করে ১,২৩৪টি আবাসন ও মোট ৩,৪০০টি অবৈধ ইউনিট তৈরির ইসরায়েলি চক্রান্তের প্রতিবাদেই মূলত লন্ডনের এই কঠোর পদক্ষেপের সূচনা। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩৬০টি আউটপোস্ট ও ১৫৬টি অবৈধ বসতিতে প্রায় ৭,৫০,০০০ ইসরায়েলি বসবাস করছে, যারা প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে চলেছে।
সূত্র: আনাদোলু