হামাস যোদ্ধাদের বিচার করতে ভয় পাচ্ছেন ইসরায়েলি বিচারকরা!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামলার বিচারকাজের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে প্যানেল সদস্য বা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ভয় পাচ্ছেন খোদ ইসরায়েলি বিচারকরা।

তাদের আশঙ্কা, হামাস যোদ্ধাদের বিচারের দায়িত্বে থাকলে পরবর্তীতে তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও মারাত্মক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারেন। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘হারেৎস’ (Haaretz)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক আদালতের বেশ কয়েকজন বিচারক হামাসের এলিট ‘নুখবা বাহিনীর’ সদস্যদের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যোগ দিতে চরম অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

বিচারকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব সংবেদনশীল বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কিংবা সে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

বিচার বিভাগীয় সূত্রের বরাতে হারেৎস জানায়, বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক আদালতের বিচারকরা এমনিতেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থান করতে বা ট্রানজিট সুবিধা নিতে পারছেন না।

সূত্রের দাবি, বিচারকদের একটি বড় অংশই আশঙ্কা করছেন যে, এই বিচারের ফলে গণমাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশিত হলে তারা আরও নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বেন।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তারা নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচারকাজ চলাকালীন বিচারকদের সুরক্ষায় ইসরায়েলের ভিআইপি সুরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ ৭ অক্টোবরের হামলায় যুক্তদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের আইন পাস করে। এরপর থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু

এএম
আরও পড়ুন