বিদ্যুৎ-পানি-রাস্তা ছাড়া সেই ছোট্ট কেবিনের গল্প

নিউইয়র্কের দুর্গম অ্যাডিরনড্যাক পর্বতমালার গভীরে মাত্র ১২×১২ ফুটের একটি কাঠের কেবিন বানিয়ে সেখানে দশকের পর দশক একান্ত নির্জন জীবন কাটিয়েছিলেন পরিবেশবিদ, লেখক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অ্যান লাবাস্তিল।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি টুইচেল লেকের তীরে তিনি নিজের হাতে এই অফ-গ্রিড কেবিন তৈরি করেন। সেখানে ছিল না বিদ্যুৎ বা চলমান পানির ব্যবস্থা; কেবিনে পৌঁছানোর জন্যও কোনো সড়ক ছিল না। নৌকায় করে সেখানে যেতে হতো। কেবিনটির জীবনযাপনই পরে তাঁর বিখ্যাত ‘Woodswoman’ স্মৃতিকথা সিরিজের মূল অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

লাবাস্তিল ছিলেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা বন্যপ্রাণী পরিবেশবিদ। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় অ্যাডিরনড্যাকে প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা, লেখালেখি ও সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর নির্জন জীবনধারা তাঁকে আত্মনির্ভরতা ও বন্যপ্রকৃতির সংরক্ষণের প্রতীক করে তুলেছিল।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী টুইচেল লেকের প্রায় ৩৪ একর জমি উন্নয়নমুক্ত রেখে সংরক্ষণের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কাছে দেওয়া হয়। পরে জমিটি ফরেস্ট প্রিজার্ভের অংশ হয়। তাঁর ঐতিহাসিক কেবিনটি অবশ্য স্থানান্তর করে Adirondack Experience জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আজও সেই ছোট্ট কেবিন অ্যান লাবাস্তিলের ব্যতিক্রমী জীবনদর্শনের স্মারক। প্রকৃতির ওপর আধুনিক জীবনের নির্ভরতা কমিয়ে কীভাবে একজন মানুষ নিজের মতো করে বনে বসবাস করতে পারেন—তাঁর জীবন তারই এক অনন্য উদাহরণ।

২০২৬ সালে তাঁর বিখ্যাত বই ‘Woodswoman’ প্রকাশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে Adirondack Experience তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে বিশেষ আয়োজন করছে এবং তাঁর জীবনী নিয়ে নতুন একটি বইও প্রকাশ করছে।