পশ্চিম তীরে একদিনে চার ফিলিস্তিনিকে হত্যা

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় যখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংকটের দিকে, তখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া, নাবলুস ও তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই প্রাণহানির ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।

পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও সামরিক অভিযানের মাত্রা বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বসতিস্থাপনকারীদের হামলা-সংক্রান্ত ১ হাজার ৩৮০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৫০টির বেশি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে নাবলুসসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা আরও তীব্র হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের অভিযানের সময় ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হন। এর আগে জুলাইয়ে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে।

এদিকে, পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারী সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সম্প্রতি সহিংস বসতিস্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরই মধ্যে পশ্চিম তীরে অনুমোদনহীন কিছু বসতি স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর এসেছে। তবে একই সময়ে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ও ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ধারাবাহিক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও আরও কঠিন করে তুলছে।