পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতার মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপে নতি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা সব অননুমোদিত ও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি বা আউটপোস্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া বসতি স্থাপনকারীরা যেসব অস্থায়ী কারাভ্যান বা ঘরবাড়ি তৈরি করেছে, মূলত সেগুলোর ওপরই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০টি অননুমোদিত আউটপোস্টকে লক্ষ্য করে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ওসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরের ‘এ’ এবং ‘বি’ অঞ্চল; যেখানে মূলত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বসবাস, সেখানকার অননুমোদিত স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠকের পর সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই ঘোষণার পরই ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তেল আবিবের ওপর চাপ আরও বাড়ে। তবে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী ও চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী নেতা বেজালেল স্মোটরিচ নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে পৃথক এক ঐতিহাসিক রায়ে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, জালুদ গ্রাম থেকে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবে বাস্তুচ্যুত হওয়া তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিরাপদে তাদের নিজেদের ঘরে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষকে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘পিস নাও’-এর হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে বর্তমানে ১৪৬টি অনুমোদিত বসতির পাশাপাশি অন্তত ৩৪০টি অবৈধ আউটপোস্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায় এসব বসতিকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য করলেও ইসরায়েল সরকার উচ্ছেদ অভিযানে নামার আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
গাজা ইস্যুতে ইসরায়েল অযৌক্তিক আচরণ করছে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১১