উত্তর কোরিয়ার প্রধান পরমাণু কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য নতুন একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। একই সময়ে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও কার্যক্রম শুরুর আলামত পেয়েছে সংস্থাটি।
আইএইএর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড থেকে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া একাধিক স্থানে ধীরে ধীরে তার পরমাণু কর্মসূচির অবকাঠামো ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইএইএ জানায়, ইয়ংবিয়নে একটি নতুন দ্বিতল ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে। সংস্থাটির ধারণা, এটি সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দ্বিতীয় স্থাপনা হতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং উপগ্রহচিত্রসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি।
আইএইএর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গত জুনে ইয়ংবিয়ন পরমাণু কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় প্রকাশিত ছবিতে ভবনটির দুই তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারি দেখা যায়। উপগ্রহচিত্রে ভবনটি নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে এসব ছবি মিলিয়ে নতুন স্থাপনাটি সম্পর্কে ধারণা করা হয়েছে।
সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানো হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার থাকলেও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইএইএর বিশ্লেষণ বলছে, নতুন ভবনটিতে সর্বোচ্চ ২৮টি সেন্ট্রিফিউজের সারি স্থাপন করা সম্ভব। ফলে ইয়ংবিয়নে উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
ইয়ংবিয়নের বাইরে কাংসন কেন্দ্রেও নতুন তৎপরতার ইঙ্গিত পেয়েছে আইএইএ। সংস্থাটির ধারণা, কেন্দ্রটির ২০২৪ সালে নির্মিত সম্প্রসারিত অংশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকতে পারে। সেখানে কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন পরিবর্তন উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উত্তর কোরিয়ায় আইএইএর পরিদর্শকরা ২০০৯ সালের পর থেকে সরাসরি পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাননি। ফলে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারিতে বর্তমানে উপগ্রহচিত্র ও প্রকাশ্য তথ্যের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক তৎপরতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, কাংসন ও ইয়ংবিয়নের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী পরমাণু উপাদান উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আইএইএ বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এসব পরমাণু কার্যক্রম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও বিদ্যমান সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং তার পরমাণু কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।