মার্কিন রণতরিতে হামলা: ইরানি মিডিয়ায় উল্লাস

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে তেহরানে ব্যাপক উল্লাস দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড এ হামলার খবর নিশ্চিত করার পর ইরানের কট্টরপন্থিরা একে বড় ধরনের সামরিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছেন।

ইরানি দৈনিক 'হামশাহরি' এক প্রতিবেদনে এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলে আখ্যা দিয়েছে। পত্রিকাটি সতর্ক করে জানায়, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে মার্কিন রণতরিগুলোতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহর এখন চরম ঝুঁকিতে।

অপরদিকে, দৈনিক 'কুদস' উল্লেখ করেছে যে এই উত্তেজনার ফলে কেবল বাণিজ্যিক ট্যাংকার নয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও এখন ইরানি বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলায় স্ত্রীকে হারানো আলি তাহেরি জানান, ক্লিনিকে জরুরি অক্সিজেনের অভাবে তার ৪৩ বছর বয়সি স্ত্রী মারা যান। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের অভাবে সাধারণ মানুষই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান, পাশাপাশি সেখানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুদের চিকিৎসায় উপযুক্ত মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে।

এই চলমান সংঘাত ও সংকটের বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জনগণের মতামত জানতে গণভোটের আহ্বান জানিয়ে কট্টরপন্থিদের তোপের মুখে পড়েছেন। রুহানি মন্তব্য করেন, জনগণ যদি পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চায় তবে ভালো, নতুবা বিকল্প পথ বেছে নেওয়া উচিত।

তার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি রুহানির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাবিয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা যুদ্ধ ও শান্তির মিথ্যা বিভাজন তৈরি করছে, তারা মূলতঃ শক্তিশালী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে চায়।