ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের দ্বারপ্রান্তে তেলের দাম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ সেশনে বেড়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এশীয় বাণিজ্যের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়।

আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ১ দশমিক ৫৭ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬০ ডলার বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর পরই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার এবং জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জর্ডানের সেনাবাহিনীর দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপ মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার জবাবে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা চালিয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখবে।

হরমুজ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে হরমুজ প্রণালির ওপর। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এর পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক হামলাও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগে এবং কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এসব ঘটনার পর মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৯ ডলারে উঠেছিল।

আগস্টের শুরু থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে

চলমান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আশা ক্রমেই কমে আসায় আগস্টের শুরু থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মূল্য’ও যুক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এখনো হরমুজ দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানাসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন বাড়াচ্ছে—যা দাম আরও দ্রুত বাড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ তৈরি করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং হরমুজ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

এমইউ
আরও পড়ুন