হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা ‘ভুল কল্পনা’: ইরানি আইনপ্রণেতা

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার যেকোনো উদ্যোগ ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে ইরানের নির্ধারিত ‘লালসীমা’ অতিক্রম করা হলে তেহরান আরও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টের বার্তা সংস্থা আইসিএএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ভাহিদ আহমাদি এসব কথা বলেন।

হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করার উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আহমাদি বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চিন্তা একটি ভুল কল্পনা।’

ইরানি এই আইনপ্রণেতার বক্তব্য, আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের বিষয়ে ইরান তার অবস্থান থেকে সরে যাবে না। তেহরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের পাশে থাকার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ‘কৌশলগত ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে’। অর্থাৎ আঞ্চলিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালে, যেখানে তেহরানের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হবে বলে তারা মনে করবে, তখন ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও সরাসরি হতে পারে।

আহমাদির মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে। সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নটি লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহকে আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে সংগঠনটির অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে তেহরানের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

ভাহিদ আহমাদির সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগকে ইরান সহজভাবে মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে তেহরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

এ অবস্থায় হিজবুল্লাহকে ঘিরে যেকোনো নতুন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।