ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে দেশটির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর গভর্নরস বোর্ড। একই সঙ্গে বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মিত্র দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ল।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের ছয় মাসেরও বেশি সময় পর আইএইএর এই সিদ্ধান্ত এলো। একই সময়ে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আইএইএর এই পদক্ষেপ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে যাওয়ায় ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
ইরান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরান পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরমাণু ইস্যু, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক সংঘাত—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে আইএইএর সর্বশেষ সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু পরমাণু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি চলমান সামরিক উত্তেজনাকেও আরও বাড়িয়ে দেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।