ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন অভিযোগ ‘রাজনৈতিক’: তেহরান

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ওঠা অভিযোগকে কারিগরি নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তেহরান।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গোলামহোসেইন দারজি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান তুলে ধরেছেন।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে দারজি বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

দারজি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে যেসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কারিগরি কোনো বিষয় নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২২৩১-এর কার্যকারিতা ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হয়ে গেছে। ফলে ওই রেজুলেশনের ভিত্তিতে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইরানি এই কূটনীতিকের অভিযোগ, ইউরোপীয় শক্তিগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ বা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে কার্যকর করেনি। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া চালুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধতা নিশ্চিত করা হয়নি।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন দারজি। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়ে দেশ দুটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধী বা নন-প্রলিফারেশন ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে।

তেহরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পরমাণু কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন এবং পরমাণু উপকরণের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফলে পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

দারজির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান নতুন অভিযোগকে কেবল পারমাণবিক প্রযুক্তি বা পরিদর্শনের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। বরং ইরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপকে বিবেচনা করছে দেশটি।

এদিকে রেজুলেশন ২২৩১-এর মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ইরানের আপত্তি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সামরিক হামলার অভিযোগও আন্তর্জাতিক নন-প্রলিফারেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফলে একদিকে ইরান তার শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির দাবি পুনর্ব্যক্ত করছে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো পরমাণু কার্যক্রমের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি ও স্বচ্ছতার দাবি জোরালো করছে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান না হলে ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন