'কয়েক বছরে সামরিক শক্তিতে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে হুথিরা'

ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী মোখা দখলের পর সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ধরে রাখতে পারা প্রমাণ করে, গত কয়েক বছরে হুথিরা সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় এক দশক আগে সৌদি আরব যে হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, বর্তমান বাহিনী তার তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও সংগঠিত।

এলমাসরির মতে, হুথিদের সক্ষমতার পেছনে শুধু স্থলযুদ্ধে দক্ষ যোদ্ধারাই নয়, গত কয়েক বছরে ইরান থেকে পাওয়া অস্ত্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের কাছে এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, মোখা দখল ও সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতি থেকে স্পষ্ট যে হুথিদের হাতে যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। বিপরীতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীগুলোকেই এখন পিছু হটতে দেখা যাচ্ছে।

এলমাসরি মনে করেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির সুযোগও কাজে লাগাচ্ছে হুথিরা। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের দিকে যখন পুরো অঞ্চলের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত, তখন সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিরা ইয়েমেনে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

তবে ইরানের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেলেও হুথিদের পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন বা ‘পুতুল বাহিনী’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন এই অধ্যাপক।

তাঁর ভাষ্য, হুথিদের নিজস্ব জাতীয় রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সঙ্গেও তাদের নিজস্ব স্বার্থ জড়িত। ইরানে কী ঘটছে, তার বাইরেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে তারা নিজেদের কর্মকৌশল নির্ধারণ করে।

ফলে মোখা দখলকে শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের একটি ঘটনা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরীতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ তাদের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব—দুই দিকেই নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।